“দশ হাজার দেব থানাতে, আবার বিক্রি করব” বিষ মদ কাণ্ডে বিস্ফোরক অভিযোগ এলাকাবাসীর

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

রাসযাত্রার আনন্দের রেশ এখনও কাটেনি এরই মধ্যে হৃদয় বিদারক আর একটি ঘটনা ঘটে গেল শান্তিপুরে। মঙ্গল বার রাত থেকে বিষ-মদে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটল শান্তিপুরের চৌধুরীপাড়া অঞ্চলে। এখনো পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী বিষমদ-কাণ্ডে সেখানে মৃত্যু হয়েছে আট জনের। ঐ একই মদ খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আরও প্রায় ১৮ জন। তাঁদের মধ্যে দুই জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমা হাসপাতালে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি চার জনের মৃত্যু হয়েছে নদিয়ার শান্তিপুরে তবে শেষ মৃত্যুটি ঘটেছে কল্যানির জহর লাল মেমোরিয়াল হাসপাতালে। 

এই ঘটনার পরই রীতিমত নড়েচড়ে বসতে হয়েছে প্রশাসনকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নদিয়ার শান্তিপুরের চৌধুরীপাড়ায় রমরমিয়ে চলছে চন্দন মাহাতোর চোলাই এর ভাটি।দিবারাত্র সেখানে চলেছে চলাইয়ের ব্যবসা। মঙ্গল বার রাতে সেই চোলাই খেয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কিছু মদ্যপায়ি। মৃতদের মধ্যে সাত-জন পুরুষ ও একজন মহিলা রয়েছেন। মৃতরা হলেন, দুলারতান মাহাতো, ভালোয়া মাহাতো, বুটো মাহাতো, কাশীনাথ মাহাতো, গৌতম শর্মা, মুন্না রাই ও চন্দন মাহাত। গত ২৭ তারিখ থেকে দফায় দফায় প্রথম সাতজনের মৃত্যু হলেও অষ্টম ব্যাক্তি চন্দন মাহাতো কল্যাণী জহর লাল মেমোরিয়াল হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছিলেন কিন্তু বুধবার রাত প্রায় ৮.৪০ নাগাদ তারও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঐ ভাটির মালিক পলাতক।

দেখুন ভিডিওঃ “দশ হাজার দেব থানাতে আবার বিক্রি করব”

ঐ অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ- এই বেআইনি মদের ভাটির কথা পুলিশ জানত। এর আগে বহুবার পুলিস-প্রশাসনকে অভিযোগ করেও লাভ হয়নি। মূলত নিম্নবর্গীয় এই সব খেটে খাওয়া মানুষ দিনের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর চলে যেতেন মদের ভাটিতে আর উপার্জনের প্রায় সবটাই খরচ করে ফেলতেন সেখানে। এই নিত্যদিনের অভ্যাস তাদের অনেকেরই পরিবারে অশান্তি ডেকে এনেছিল । রমরমিয়ে চলছিল চোলাইয়ের ভাটি আর একের পর এক পরিবারে নেমে আসছিল নেশার অভিশাপ। আর এ সবই চলছিল সবার চোখের সামনেই তাই এত গুলো মৃত্যুর পর স্বভাবতই স্থানীয়দের সব রাগ গিয়ে পড়ছে প্রশাসনের উপর।


বিজ্ঞাপন 


এর আগে বিষমদে বড় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ২০১১ সালে ডায়মন্ড হারবারে যেখানে মৃত্যু হয়েছিল ১৭৩ জনের। এবার  রাজ্য সরকার শান্তিপুর এই বিষমদ-কাণ্ডের সাথেসাথেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। ঘটনা ঘটার প্রায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাসপেণ্ড করা হয়েছে আবগারি দফতরের আধিকারিক-সহ ১১ জনকে। এছাড়া নিহতদের পরিবার পিছু দু-লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র নবান্নে এই ঘোষণা করেন।
ছবি সৌজন্যেঃ Santanu Chakrabarti  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *