এবার পুজোয় বিশ্বের সর্ববৃহৎ জগদ্ধাত্রী মূর্তি তৈরি হচ্ছে কৃষ্ণনগরে!

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

দেবী দুর্গারই আর এক রূপ জগদ্ধাত্রী তবু দুর্গাপূজায় বাঙালির ভেতর যে উন্মাদনা, সারা বাংলা জুড়ে যে জাঁকজমক তা জগদ্ধাত্রী পুজোয় কোথাওই তেমন চোখে পড়ে না। যদিও কৃষ্ণনগর ও চন্দননগর এর ব্যাপার সম্পূর্ণ আলাদা! চন্দননগর চোখ কেড়ে নেয় আলোর রোশনাইয়ে কিন্তু কৃষ্ণনগরের পুজোর মূল থিম একান্তই তার ঐতিহ্য ও বনেদিয়ানা।গত কুড়ি বছরে সারা বাংলা জুড়ে যে থিম পুজোর প্রচলন তা একদা ছুঁয়ে গেছে কৃষ্ণনগরকেও। কলকাতার মত ক্লাব-পুজোর বড় বড় ব্যবসায়ী পৃষ্ঠপোষক না থাকলেও কৃষ্ণনগরের আছে শতাব্দীপ্রাচীন মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য তাই কখনো কখনো থিম পুজোয়  কৃষ্ণনগরের হস্তশিল্পের কাছে হেরে গেছে কলকাতার অর্থের জৌলুস। শহরের ঘরোয়া শিল্পীকেই কাজে লাগিয়ে কম খরচেই নেমে গেছে থিম পুজো। তবে দিন বদলেছে, এখন আর শুধুমাত্র চাঁদার উপর নির্ভর করেই থাকেন না পূজার কর্মকর্তারা। চাঁদার পাশাপাশি মেলে নামজাদা কোম্পানির স্পনসরশিপ । সবচাইতে আকর্ষণীয়- কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রীর গহনার সম্ভার। প্রায় সব বারোয়ারির ঠাকুরেরই আছে প্রচুর গহনা যা নকল নয় বরং আসল সোনা ও রুপায় তৈরি। চোখ ধাঁধানো এই সব গহনার সম্ভার দেখতে প্রতি বছরেই কৃষ্ণনগরে পাড়ি জমান বাইরের দর্শনার্থীরাও । এদিক থেকে সব চাইতে এগিয়ে আছেন চাষাপাড়ার বুড়িমা তবে কাঁঠালপোতা বা হাতারপাড়ার মেজো মা বা ছোটমাও কিছু কম যাননা!


বিজ্ঞাপন 


এতো গেলো ঐতিহ্যবাহী পূজা গুলির কথা কিন্তু এবারের পুজোর আকর্ষণ কেড়ে নিতে চাইছে সদর কৃষ্ণনগর নয় বরং কৃষ্ণনগরের উপান্তে অবস্থিত প্রতিভা ক্লাব। কৃষ্ণনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দুরত্বে অবস্থিত এই প্রতিভা ক্লাব। খেলাধুলায় ও  প্রশিক্ষণে ধীরে ধীরে শহরতলীর এই ক্লাবটি ক্রমেই নজর কাড়ছে সকলের। তবে খেলাধুলার পাশপাশি অনুষ্ঠান আয়োজনেও ক্রমশ সাহসী হয়ে উঠছে এই নতুন ক্লাবটি। গত বারও প্রচুর দর্শনার্থী টেনে নিয়েছিল প্রতিভা,সেবারের থিম ছিল দিল্লির লালকেল্লা তবে এবার ক্লাবটি এমন এক প্রতিমা নির্মাণ করছে যা হার মানিয়ে দিতে পারে কৃষ্ণনগর ও চন্দননগরের অন্যান্য পুজোর জাঁকজমককেও। প্রতিভা ক্লাবের এইবারের পুজোর প্রধান আকর্ষণ ৫১ ফুটের বিরাট জগদ্ধাত্রী মূর্তি! বিশাল এই নির্মীয়মান মূর্তি ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলে দিয়েছে শহরে। ব্যাকগ্রাউন্ডে নীল আকাশ রেখে সামনে সুউচ্চ সিংহবাহিনী এমন এক বিশালাকায় দেবী মূর্তি তৈরি করছেন প্রতিভা ক্লাবের সদস্যেরা যার দিকে চোখ গেলেই কেঁপে উঠতে পারে আপনার বুক। মনে হতে পারে এই বুঝি নড়ে উঠবে জুরাসিক পার্কের সেই ডাইনোসরের আকারের এই বিশাল সিংহখানি। মোটামুটিভাবে বলা হচ্ছে এটাই বিশ্বের সর্বকালের সর্ববৃহৎ জগদ্ধাত্রী প্রতিমা।



আমরা কথা বলেছিলাম প্রতিভা ক্লাবের সম্পাদক সুজিত দাসের সাথে। উনি এককথায় বললেন” এর চেয়ে বড় প্রতিমা এর আগে আর হয়নি, এই বিশাল আকারই এবারে আমাদের তথা কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর মূল আকর্ষণ!” । কথা বলে জানা গেল এই প্রতিমা তৈরির গোটা প্রক্রিয়াটা প্রায় দেড় মাসের। ১৩ই নভেম্বরই মোটামুটি মূর্তি তৈরি সম্পূর্ণ হবে, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ১৫ই নভেম্বর। এই প্রতিমার নির্মাণের উপকরণ অন্যান্য প্রতিমার মত হলেও এর নির্মাণ-কৌশল কিছুটা আলাদা।বড় বড় বাঁশ দিয়ে খাঁচা বানিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রথমে তারই উপর পড়ছে যথাক্রমে  খড় , খড়মাটি, তুষমাটি, এঁটেলমাটির প্রলেপ  ও সবশেষে রং।



তবে জানা যাচ্ছে ১৫০টির উপর  বাঁশই লেগে গেছে শুধুমাত্র কাঠামো বানাতে, বিচুলি লেগেছে কয়েক গাড়ি!প্রতিমার পাশে ভারা বেঁধে দিবারাত্র চলছে কাজ। এই বিশাল প্রতিমা দেখে খুব স্বাভাবিক ভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে- কে সেই ব্যাক্তি যিনি এত বড় একটা মূর্তি নির্মাণের দায়িত্ব নেওয়ার সাহস দেখালেন ? আমরা সকলেই জানি গুজরাতে খুব সাম্প্রতিক বল্লভ ভাই প্যাটেলের মূর্তি তৈরি হয়েছে।  মূর্তিটির সমগ্র পরিকল্পনা  করেছিলেন একজন ভাস্কর কিন্তু তার সঙ্গে ছিল বেশ কয়েকজন ইঞ্জিনিয়ারের গোটা একটি দল ও তাদের উন্নত প্রযুক্তি। কিন্তু শুনলে অবাক লাগে কৃষ্ণনগরের এত বড় একটি জগদ্ধাত্রী প্রতিমা নির্মাণ করেছেন হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র স্থানীয় শিল্পী অর্থাৎ  রমেশ পাল ও তার সহযোগীরা। মূর্তি নির্মাণ ও রং সমাপ্ত হলেই  শিল্পী স্যামসুন্দর গরাই-এর হাতে বর্ধমানের বনকাপাসির সাজে সেজে উঠবেন দেবী তাই এখন সারাদিনরাত শুধু বিস্ময়মাখা চোখে এই বিরাট নির্মাণ সম্পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় চেয়ে আছে প্রতিভার ছেলেরা।


বিজ্ঞাপন 


 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কল করুন মোবাইল বাজার কৃষ্ণনগর