এ কোন ভারত?! কিশোর গো-সন্ত্রাসীর মারে রক্তাক্ত বৃদ্ধ, আবার হাপুরের ভাইরাল ভিডিও

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে গো সন্ত্রাসীদের দাপট ক্রমশই বেড়ে চলেছে। বলাই বাহুল্য ঘটনা পরম্পরায় যা দেখা যাচ্ছে তাতে এই সব অপরাধের শাস্তি তো হচ্ছেই না বরং শাসক দলের এক অংশ রীতিমত ঘৃতাহুতি দিয়ে চলেছেন । ইতিমধ্যেই এই উগ্র ধর্মোন্মাদদের সন্ত্রাসের বলি হয়েছে প্রচুর নিরীহ মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ। এই সংখ্যা গতবছর জুন মাস পর্যন্ত ছিল 23 টা। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি রিপোর্ট অনুযায়ী  ২০১৪থেকে ২০১৭ জুন মাস পর্যন্ত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের উপর দলবদ্ধ আক্রমণের সংখ্যা ছিল ৩২ যার মধ্যে ২৩ জনকে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে ছিলেন মহিলা, ছিল শিশু এবং এই  নথীবদ্ধ  হিসেব ছাড়াও এরকম আক্রমণের ঘটনা অহরহ ঘটেছে এবং নিয়মিত ঘটে চলেছে  সারা দেশ জুড়ে। গোহত্যা, গরু পাচার, গোমাংস বিক্রি, ভক্ষণ অথবা বহন করার অভিযোগেও একাধিক হত্যা র ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও আছে শিশু চুরির মতো গুরুতর অভিযোগ যা বারবার মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। শিশু চুরির সন্দেহে হত্যার ঘটনা ঘটেছে ঝাড়খন্ডে, পশ্চিমবাংলায়।   হত্যা ছাড়াও এইরকম মিথ্যা  অভিযোগ এনে বা সন্দেহের বশে করা হয়েছে বেশকিছু গণধর্ষণ, হরিয়ানার মেওয়াতের ঘটনা এর সাক্ষ্য বহন করে ।

14 জুন উত্তরপ্রদেশের হাপুরে এমনই এক মর্মান্তিক গণহত্যার ঘটনা ঘটানো হয়েছিল প্রকাশ্য দিবালোকে । ঐদিন কাশিম নামের এক গবাদি পশু ব্যবসায়ীকে সন্দেহের বশে হত্যা করে কিছু মানুষ । সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে আসা একটি ছবিতে দেখা যায় মৃতপ্রায় কাশিমকে টেনে আনছে একদল গো-সন্ত্রাসী আর সেখানে তাদের সাহায্যার্থে  ভিড় সরাচ্ছে  পুলিশ।

শুধু কাসিম নয় ওই ঘটনার শিকার আরও এক মুসলিম- সামিউদ্দিন যিনি কাশিমকে রক্ষা করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাকেও প্রচণ্ড প্রহৃত হতে হয়। তবে  কয়েকদিন ধরেই  ৬৫ বছর বয়সী সামিউদ্দিন কে মারধোরের  একটা ভিডিও ক্লিপ উঠে এসেছে সোশ্যাল  মিডিয়াতে এবং ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশ। এই ভিডিওয়  দেখা যাচ্ছে একদল লোক সামিউদ্দিনকে জোর করে গোহত্যার স্বীকারোক্তি করাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে বৃদ্ধ  সামিউদ্দিনের মাথায় গভীর ক্ষত, রক্তে ভিজে গেছে জামা, সে তার প্রান ভিক্ষা চাইছে এবং উল্টো দিক থেকে ভেসে আসছে তার ধর্ম তুলে অকথ্য  গালিগালাজ  এবং তারপরে দুষ্কৃতীরা সামিউদ্দিনের দাড়ি ধরে টানছে ও নানারকম ভাবে হেনস্তা করছে। এবং সব চাইতে লজ্জাজনক ব্যাপার হল নিগ্রহকারীদের গলার স্বর ও ছবি দেখে বোঝা যায় যে এরা প্রায় সবাই বয়সে শিশু বা কিশোর।  এই মর্মান্তিক ছবি খুব দ্রুতই ক্রমশ মিডিয়ায় ছড়িয়ে  পড়ে এবং ধর্মীয় উন্মাদনার এক কদর্য রূপ তুলে ধরে  সমাজের কাছে। রিপোর্ট অনুযায়ী সামিউদ্দিন এখন আইসিইউতে ভর্তি ।

মধ্য প্রদেশ হাপুরের পিলখুয়া গ্রাম দিল্লি থেকে 70 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কাসিম ও সামিউদ্দিনের পরিবারের দাবি অনুযায়ী -নেয়া হচ্ছে না যথাযথ অভিযোগ । কাসিমের ভাইয়ের বয়ান এখানে তুলে ধরা হচ্ছে- ” আমার ভাই ছিলেন একজন গবাদিপশু ব্যবসায়ী, বিভিন্ন গ্রাম থেকে গবাদি পশু কিনে এনে গ্রামের হাটে বিক্রি করতেন তিনি। ঐ দিন একটা ফোন কল পেয়ে উনি ১১.৩০ এ একটা গরু বিক্রি আছে খবর পেয়ে প্রায়  ৫০  হাজার টাকা নিয়ে দ্রুত রওনা দেন এরপর ৩ টা ৩০ মিনিটে পুলিশ আমাদের জানায় যে ভাই একটা গন্ডগোলে আহত হয়েছে ও তাকে হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ আমাদের থানায় যেতে বলে সন্ধ্যা ৬.৩০ পর্যন্ত আমরা সেখানে অপেক্ষা করি এবং তারপর আমাদের জানানো হয় নন্দিনী হসপিটালে কাশিমকে ভর্তি করা হয়েছে।”

একই রকম বিবরণ শোনা গেছে সামিউদ্দিনের ভাই মেহেরউদ্দিনের কাছ থেকেও- ” আমার দাদা আমাদের জমিতে গবাদি পশুর খাবার আনতে গেছিল ঠিক তখনই দেখতে পায় চার-পাঁচজন লোক একজনকে প্রচণ্ড মারধর করছে। সে গন্ডগোলের ভেতর ঢোকার চেষ্টা করে কিন্তু  আক্রান্ত হয়। ততক্ষণে ৩৫-৪০ জন লোক তাকে ঘিরে ধরেছে। ৩.৩০ এর সময় পুলিশ ব্যাপারটা আমাদের জানায় কিন্তু সন্ধ্যে ৬.৩০ এর আগে তার সাথে আমাদের দেখা করতে দেয়া হয় না। আমরা দেখি এমন কোন জায়গা নেই যেখানে আঘাতের চিহ্ন নেই, শরীরের একাধিক হাড় ভাঙ্গা এবং কিছু গভীর ক্ষত। এই ঘটনায় আক্রান্তের পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার  দিল্লীতে একটি প্রেস কনফারেন্সে  অভিজ্ঞতার কথা জানায়। তাদের দাবী –   পুলিশ তাদের বয়ান অনুযায়ী অভিযোগ নেয়নি। প্রচন্ড ভীত অবস্থায় মেহের উদ্দিন জানান ” আমার পরিবার আতঙ্কিত এবং এ ব্যাপারে খুব বেশি কিছু বলতে চাইনা কারণ আম্রা জানিনা কি ঘটতে চলেছে।”

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *