দিল্লী সরকার এবার চালু করতে চলেছে এক বিশেষ বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।

দিল্লী সরকার এবার চালু করতে চলেছে এক বিশেষ বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য তারাই যারা হতদরিদ্র এবং ভিক্ষাজীবী। এর পূর্বে  দিল্লীতে  রাজেশ শর্মা নামক এক ব্যাক্তি তার নিজের উদ্যোগে  বস্তির শিশুদের নিয়ে একটি রেল ব্রিজের নিচে ক্লাস্রুম খুলেছিলেন 2015 সালে যা নিয়ে হইচই পড়ে গেছিল সারা দেশে তারপরে  দিল্লীর সরকারী  স্কুলে সি বি এস সি পরীক্ষায় নজরকাড়া রেজাল্ট  আর এখন অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকারের নতুন কার্যক্রম ফুটপাতবাসী ও  ভিখারিদের নিয়ে।

[sc name=”Adcode”]

এই সামগ্রিক পরিকল্পনার মূল পদক্ষেপগুলি হবে ফুটপাতবাসী ও  ভিখারিদের নিয়ে বিভিন্ন ভোকেশনাল কোর্স   চালু করা। এই পদক্ষেপ সেইসব মানুষের জন্য যারা সমাজের সবচাইতে নীচের স্তরে আছেন, সহায়হীন এবং যাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রায় নেই বললেই চলে। দিল্লী সরকারের লক্ষ্য তাদেরকে সামাজিক ও ব্যক্তি সুরক্ষা দান করা যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবেও স্বনির্ভর হতে পারেন এবং সুন্দর একটা ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন।

কি থাকবে এই পরিকল্পনায় ?

যারা এই কার্যক্রমে নিজেদের নাম তালিকাভুক্ত করবেন, প্রাত্যহিক আড়াইশো টাকা করে তাদেরকে পারিশ্রমিক দেওয়া হবে এরই সাথে এদের দেওয়া হবে একটি পরিচয় পত্র যা আত্মপরিচয়হীন অন্যান্য দরিদ্র মানুষকেও এই প্রোগ্রামে যোগ দিতে উৎসাহিত করবে। এছাড়াও এই স্কিমে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রাদি, উপকরণ, সেলাই মেশিন  ইত্যাদির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কৃত করা হবে যারা কিনা এই  পাঠক্রম সম্পূর্ণ করবেন । সফল শিক্ষার্থীদেরকে দেওয়া হবে স্বাধীনভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার সুযোগ ।এই প্রস্তাব শীঘ্রই দিল্লি বিধানসভায় পেশ করা হবে । তবে প্রশ্ন উঠেছে সত্যিই কি এই ধরনের পদক্ষেপ ভারতবর্ষের গৃহহীন মানুষের সমস্যার সমাধান করবে ? এর পূর্বে ফুটপাতবাসী ও  ভিক্ষাজীবিদের উন্নতির জন্য সরকারি কোন পদক্ষেপই ফলপ্রসূ হয়নি। দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মত মেট্রোপলিটন শহর যেখানে অর্থনৈতিক পার্থক্য চরম পরিমাণে বিদ্যমান, সেখানে ভিক্ষাবৃত্তি এক প্রকার শাস্তিযোগ্য আইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  ফুটপাতবাসী ও ভিক্ষুদের সেখানে সরকারী হমে পাঠানো হয় কিন্তু   কিছু দিনের মধ্যেই তারা আবার  ফিরে এসে রাস্এতায় দাঁড়ান-এর একটাই কারণ এবং সেটি হল পর্যাপ্ত অর্থের  যোগান না থাকা। এইরকম পরিকল্পনা গ্রহণে এর পূর্বের একমাত্র নজির ছিল মহারাষ্ট্র সরকারের যারা এবছরই ফেব্রুয়ারি মাসে  70000 ভিক্ষাজীবি কে দুই সপ্তাহের ট্রেনিং দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োগ করার কথা ঘোষণা করে  কিন্তু মহারাষ্ট্র সরকারের সেই প্রজেক্ট খুব সুপরিকল্পিত ছিলনা, এর চাইতে অনেক উন্নত পরিকল্পনার স্বাক্ষর রেখেছে দিল্লী সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *