৫ নিরেট হত্যাকাণ্ড, যা না করলেও চলত

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

ভালোবাসার মত হিংসাও মানুষের মনের চিরন্তন এক অনুভূতি। আমরা হিংস্রতার কথা উঠলেই প্রথমেই তার তুলনা করে ফেলি পশুর সাথে। শিল্পে সাহিত্যে বার বার করেই এই তুলনা উঠে এসেছে। যেন আমরা বারবার এটাই বোঝানোর চেষ্টা করি যে যেহেতু মানুষ বুদ্ধিতে শ্রেষ্ঠ, যেহেতু সে সামাজিক তাই সে নাকি হিংসা ত্যাগ করেছে আর হয়ে উঠেছে ‘সভ্য’। ধারনাটা একবারেই ভুল, বিধি নিষেধের বাঁধনে হিংসা সে প্রকাশ করার সুযোগ পায়না কিন্তু একবার সুযোগ পেলেই হল- তখন সে সভ্যতা ভুলে পশু, বুদ্ধিমান এক পশু! সে আঘাত করতে পারে সহজেই, হত্যা করতে পারে হেলায়। সাধারণতঃ সব খুনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের আগেই আইন ও বিচার ব্যাবস্থা দোষীকে সনাক্ত করার কাজ করেই হাত তুলে নেয়। তাই অজানাই থেকে যায় খুনের কারন। তবে কিছু ক্ষেত্রে সুচারু তদন্ত, মনস্তাত্বিক বিশ্লেষণ থেকে বেরিয়ে আসে হত্যার আসল মোটিফ।  কিছু অদ্ভুত হত্যার পেছনের কারণ জনসমক্ষে আসতেই হইচই পড়ে যায় বিশ্বে তেমনি কিছু ঘটনা এখানে তুলে ধরা হল।

ফারগাস গ্ল্যানের হত্যাকাণ্ডঃ শুনলে অবাক হয়ে যেতে হয় । ২০০৩ সালে গ্ল্যান তার ভাইকে হত্যা করেন কারণ তাকে এক রাতে পরিবারের জন্য ডিনার বানাতে হয়  কিন্তু তার পরিবর্তে ভাই  তাকে সামান্য ধন্যবাদ দেওয়ার সৌজন্য টুকুও দেখায় না। এরপর গভীর রাতে সে মদ্যপ অবস্থায় তার ভাইকে কুড়ুল দিয়ে হত্যা করে।  ঘটনা নিউজিল্যান্ডের।  তথ্যসূত্র

 

ফ্রাঙ্কলিন পল ক্রোর হত্যাকাণ্ড ঃ
মৃত্যু সব সময়ই বেদনার তবে হত্যার কারণ জানলে হাসি পেতেই পারে! ২০০৬ সালে  ফ্রাঙ্কলিন পল ক্রো নামক ব্যাক্তি তার রুমমেট কে হত্যা করেন সামান্য টয়লেট পেপারের জন্য। রুমমেট বন্ধুর সাথে হৃদ্যতা কম ছিলনা ক্রোর, কিন্তু একদিন বাথ্রুমে টয়লেট পেপার না থাকায় বাঁধে বচসা আর টা থেকেই হত্যা! খুনের অস্ত্র ছিল হাতুড়ি। ঘটনা ঘটে ফ্লোরিডায় । তথ্যসূত্র 

 

আলেকজান্দ্রা টোবিয়াসের হত্যাকাণ্ডঃ

ফেসবুক, টিভি বা  কম্প্যু ম্যানিয়া নিয়ে বহু জোক প্রচলিত আছে, আছে কিছু জনপ্রিয় কার্টুনও তবে এই ঘটনাটি মর্মান্তিক। চ্যাট করা হোক বা গেম খেলা ফেসবুক আসক্তি যে মানুষকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তার এর চাইতে বড়  উদাহরণ বোধ হয় আর নেই। এটাও ফ্লোরিডার ঘটনা, ২০১০ সাল,  ২২ বছর বয়সী সদ্যজাত শিশুর জন্মদাত্রী মা  আলেকজান্দ্রা টোবিয়াস ফেসবুকে ফার্মভিল খেলছিলেন, তিন মাসের সন্তান মাকে না পেয়ে সমানে  কাঁদছিল। খেলায় মনযোগ বাঁধাপ্রাপ্ত হচ্ছিল তাই বাচ্চাটিকে হঠাৎ তুলে ধরে ঝাঁকাতে   থাকেন আলেকজান্দ্রা। কিছু ক্ষণের মধ্যেই শিশুটির শ্বাসপ্রশ্বাস স্তব্ধ হয়ে যায়। তথ্যসূত্র    

 

শাকিরা ডোরসের হত্যাঃ

২০১২ সালে শাকিরা ডোরসে নামক ১৬ বছর বয়সী একজন ছাত্রীকে হত্যা করে তারই সহপাঠী ( অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধী তাই নাম গোপন রাখা হয়েছে)।একদিন ক্লাসে ঐ সহপাঠী বাতকর্ম করলে শাকিরা সেটা নিয়ে হাসিঠাট্টা করতে থাকে। অন্যান্য সহপাঠীদের সামনে এই মানহানি মেনে নিতে পারেনি উক্ত সহপাঠী তাই সে হঠাৎ আক্রমণ করে শাকিরাকে এবং প্রচণ্ড প্রহারে শাকিরার মৃত্যু হয় । তথ্যসূত্র 

 

ব্রেনডা স্পেন্সারের হত্যাকাণ্ড ঃ

১৬ বছর বয়সের ক্লিভল্যান্ডের এই ছাত্রী  দুজন প্রাপ্তবয়স্ক লোককে গুলি চালিয়ে হত্যা করে এবং বহু শিশুকে একই সাথে আহত করে। মা-বাব্র বিচ্ছেদের পর বাবার সাথেই থাকত ব্রেনডা। দারিদ্রে কাটত তাদের দিন।  ১৯৭৯ সালের ২৯ জানুয়ারি সকাল, সেদিন সোমবার ছিল, ব্রেনডা হঠাৎ সকালে স্কুলগামী বাচ্চাদের উপর বন্দুক নিয়ে গুলি চালানো শুরু করে। বাচ্চাদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারান স্কুলের প্রিন্সিপাল তারপর একই ভাবে মারা যান আরও এক জন সুরক্ষা কর্মী । পুলিশ ব্রেনডাকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়-  ” আমি সোমবারকে ঘৃণা করি , কারণ সোমবার থেকেই আবার ব্যাস্ততা শুরু হয়” । প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী বাচ্চাটির এই বয়ানে প্রভাবিত হন,  গান রচনা করেন ” I don’t like Mondays”। একটি  ছোট বাচ্চার মুখ দিয়ে যেন প্রাত্যহিক শহুরে জীবনের এক গভীর শুন্যতার ভাষ্য আমরা শুনতে পাই। তথ্যসূত্র  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *