কলকাতার অশরীরী!

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

ন্যাশনাল লাইব্রেরী আলিপুর

কথিত আছে এই  লাইব্রেরীর বুক শেল্ফের গোলকধাঁধায়  নাকি ঘুরে বেড়ায় অশরীরী আত্মারা। হয়তঃ আপনি বই পড়তে পড়তে মগ্ন হয়ে গেছেন, খেয়ালই করেননি ঘড়ির কাঁটা, কখন যেন ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন অন্যান্য পাঠকেরা… হঠাৎ করে শুনলেন কে যেন ফিসফিস করে কি সব বলে গেল আপনার কানে! হ্যাঁ এমনটাই অভিজ্ঞতা অনেক পাঠকের হয়েছে বলে জনশ্রুতি!  তাদের কথা যদি বিশ্বাস করতে হয় তাহলে প্রশ্ন জাগে সবটাই কি মনের ভুল?!… হয়ত বই পাগল কোন পাঠক মৃত্যুর পরও মায়া ত্যাগ করতে পারেনি লাইব্রেরীর আবার হতে পারে শব্দ গুলো বইয়ের পাতার ফাঁকে হাঁসফাঁস করতে করতে আর থাকতে চাইছে না, জীবন্ত হয়ে উঠতে চাইছে থেকে থেকেই… হতেই পারে কারণ ইন্টারনেটের মায়াজালে বইয়ের  পাঠকের সংখ্যা যে ভাবে কমছে  দিনকে দিন!  তবে লাইব্রেরীর কর্মী বা স্থানীয় জনগনের মত আলাদা- তাদের মতে ওটা নাকি তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড মেটাকাফের  স্ত্রীর প্রেতাত্ম। তাকে নাকি কখনো কখনো  দেখাও যায় লাইব্রেরীর করিডোরে।

 

হেস্টিংস হাউস

হেস্টিংস হাউসের ভুতুড়ে কাণ্ডকারখানা প্রায় সর্বজন বিদিত। অশরীরী এক ঘোড়াকে নাকি এখানে প্রায়শই দেখা যায়। ১৯৩০ সালে জর্জ উইলিয়াম নামক এক সাহেব ওখানে বসবাস করতেন, তার ছিল এক দুরন্ত রেসের ঘোড়া যার নাম ছিল ‘প্রাইড’। দুধসাদা এক ময়ুর পঙ্খীর মত ছিল প্রাইড । জর্জ প্রচুর অর্থ জিতেছিলেন ঘোড়াটির মাধ্যমে। কিন্তু  দিনে দিনে  প্রাইড এক সময় বুড়িয়ে গেল, শেষমেশ আর ভালো দৌড়াতে পারত না, সে যেন দিন দিন হয়ে উঠেছিল মনিবের বোঝা।  তারপর শেষে শনিবারের এক রেসের পর ভোরে রক্তাক্ত প্রাইডের মৃতদেহ পাওয়া গেল রেসের মাঠে , দেহে বিঁধে ছিল একটা বুলেট। তখন নাকি রেসের ঘোড়া অকেজো হয়ে গেলে তাকে হত্যা করে ফেলার  অমানবিক এক রীতি ছিল। এভাবে মনিবের জন্য জান লড়িয়ে দৌড়ানোর মিলেছিল মর্মান্তিক প্রতিদান। তার বহু বছর পরে শনিবার রাতের দিকে নাকি অনেকেই দেখতে পেট প্রাইডকে, অন্ধকার রেস কোর্সের বুক চিরে ছুটে চলেছে রুপোলী বিদ্যুতের মত একটা ঘোড়া…

লোয়ার সার্কুলার রোডের কবরখানা 

কখনো গেছেন লোয়ার সার্কুলার রোডের কবরখানাতে ? একটু সন্ধ্যার দিকে? একটা অদ্ভুত হাওয়া যেন ঘিরে থাকে কলকাতার ঐ টুকু জায়গা। কত দিনের পুরানো সব সমাধি… লতাপাতা ঢাকা কত স্মৃতি ছড়িয়ে রয়েছে চারদিকে, একটা গা ছমছমে ভাব আপনাকে পেয়ে বসব। ওখানেই শুয়ে আছেন স্যার উইলিয়াম হে ম্যাকনাটেন । স্যার ম্যাকনাটেনকে ইংরেজ – আফগান যুদ্ধে  নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়, মৃতদেহ  হয়ে যায় ছিন্নভিন্ন। সেই দেহ  কলকাতায় আনার পর তাকে সমাধি দেন তার স্ত্রী লোয়ার সার্কুলার রোডের সেমেটারিতে কিন্তু ঐ ভয়ংকর মৃত্যু যেন আজও ভুলতে পারেননি উইলিয়াম।  জনশ্রুতি আছে ঐ সমাধির কাছে গেলেই নাকি আশপাশের গাছের পাতা গুলো অস্বাভাবিক ভাবে দুলে ওঠে, যেন নিজের দীর্ঘদিনের চাপা বেদনা বুঝিয়ে দেন স্যার উইল্যামের প্রেতাত্মা।

রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো রেল স্টেশন

প্যারাসাইকলজিসট বা অলৌকিক বিষয়ের গবেষকেরা বলেন যে পৃথিবীর কিছু স্থানে এক প্রকারের চৌম্বকীয় ক্ষেত্র কাজ করে যা আকর্ষণ করে তাড়িত আত্মাদের সে জীবন্তই হোক বা মৃত।  রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশন কি তবে তেমনি একটা জায়গা? কলকাতায় মেট্রো রেলে ঝাঁপ দিয়ে আত্ম হত্যার ঘটনা নাকি রবীন্দ্র সরবরেই ঘটে সবচাইতে বেশী। প্রেমে ব্যর্থতা, দাম্পত্য কলহ বা বেকারত্বের যন্ত্রণা যেটাই হোক না কেন হতাশার তাড়নায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই জায়গাটিই বেঁছে নেন আত্মহত্যাকারীরা।  শেষ  ট্রেনে বাড়ি ফেরা চাকুরে বা নির্জন স্টেশনে অপেক্ষারত ছাত্রছাত্রী অনেকেই দেখেছেন আবছা, ছায়া ছায়া অবয়বদের এখানে ঘুরে বেড়াতে।

 শোভাবাজারের পুতুলবাড়ি 

কলকাতায় সম্ভবত সব চাইতে আলোচিত স্থান এই পুতুলবাড়ি। আগে এক  বদনাম ছিল এখন হয়েছে আরেক বদনাম! বহু পুরানো, প্রায় তিনশো বছরের এই বাড়ি ছিল এক বিখ্যাত যাত্রা কোম্পানির মালিকের। এই বাড়িতে তাই আনাগোনা  ছিল কলকাতার বিখ্যাত নটনটীদের তবে এ বাড়ির বদনামও ছিল প্রচুর! এখানে নাকি সম্পদশালী বাবুরা আসতেন এবং মহিলাদের উপর চালাতেন অকথ্য শারীরিক নির্যাতন। আজও সেই নিপীড়িতা, শোষিতাদের দীর্ঘশ্বাস নাকি ঘুরে মরে কালের ভারে জরাজীর্ণ এই প্রাসাদোপম বাড়ির আনাচে-কানাচে। অনেকটা রবি ঠাকুরের ক্ষুধিত পাষাণের সেই কেল্লার মত যেখানে দেওয়ালে কান পাতলেই শোনা যেত গভীর বেদনার, কান্নার সুর, প্রত্যেকটা পাথর গুমরে উঠত আপন মনে । শোভাবাজার লঞ্চ ঘাটের কাছে হরচন্দ্র মল্লিক লেনের এই বাড়ির সামনে দাঁড়ালে আপনার এটাকে একটা বাড়ি নয় বরং মনে হবে হাড়গোড় বেরনো একটা থুত্থুড়ে বুড়ি দাঁড়িয়ে আছে।  স্থাপত্যের গায়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে একাধিক পুতুল মূর্তি, থামের গায়ে পুরানো ইউরোপীয় ঘরানার নকশা, পুরানো কাঠের জানলায় ভাঙা খড়খড়ি   । রাতের আল আঁধারিতে এই সব মিলিয়েই এই বাড়ি হয়ে ওঠে রহস্যময়ী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *